এক অদ্ভুত সময়ের সন্ধিক্ষনে আমরা। প্রযুক্তি ছুটে চলেছে দুর্বার গতিতে সময়ের তালে তালে। সাদা কালো টিভি থেকে রঙিন টিভি। চোখের পলকে সাদা কালো পাল্টে রঙ ছড়ালো প্রযুক্তির দুনিয়ায়। নকিয়া ১১০০ ফোন থেকে সামসাং স্মার্ট ফোন। কথা থেকে ভিডিও, গান, ভিডিও কল, সারা দুনিয়ার খবর হাতের মুঠোয়। আলাপচারিতা ফোন কল থেকে ডিজিটাল দুনিয়ার ভার্চুয়াল দুয়ার। ফেসবুকে চ্যাট থেকে ভিডিও, সংবাদপড়া, হাসি-কৌতুক আরও কত কি! বিলবোর্ডের এড এখন ভার্চুয়াল জগতে! বিপনন ও কর্পোরেট দুনিয়া পার্থিব থেকে অনলাইনে প্রবেশ করেছে। ভাবতে অবাক লাগে এই তো সেইদিন মানুষ সাদা কালো টিভি দেখতে মাইল পাড়ি দিত! এখন সেই ব্যেক্তি ২০,০০০টাকা দামের মোবাইল হাতে নিয়ে দুনিয়া চক্কর দিচ্ছে। ক্লিক করলেই ঘুরে আসছে সুন্দর বন থেকে আমাজান,কাশ্মীর থেকে নায়াগ্রা…………ব্ল্যা ব্ল্যা ব্ল্যা…………।
পরিবর্তন! খেলার মাঠ কাঁদা জল ঘাসে ভর্তি! আজও ছেলে ঘরে ফেরে হাত পা ভেঙ্গে তবে ফুটবল খেলে নয়, পোকোমন খেলে!!
অবাক তথ্য! নব্বই দশকেও গরিব ছাত্র নিজের খরচা বের করত টিউশনি করে আর আজ খরচা বের করছে অনলাইন থেকে আউট সোর্চিং করে! বড় বড় চোখ করে একদিন একজনকে(ছাত্র) কৌতুহুল মেটাতে জিজ্ঞেস করেছিলাম কিভাবে সম্ভব ভার্চুয়াল ইনকাম???? আমার দিকে তাছিল্যের হাসি দিয়ে বললে” কোন দুনিয়ায় আছেন দাদা?? রাতে দুঘন্টায় ১০ ডলার ,কে যায় দরজায় কড়া নাড়িয়ে ছাত্র পড়াতে!!”
কৌতুহুলে পালক যুক্ত হল! খোঁজা শুরু করলাম নিজের ভাইপোর খোঁচা খেয়ে কি আছে অনলাইনে! আউট সোর্সিং! আউট সোর্সিং! আউট সোর্সিং!
প্রযুক্তির কল্যানে জানতে চেষ্টা করছি কারা টাকা দেয়? কেন দেয়? কিভাবে দেয়?কারা ইনকাম করছে? কিভাবে ইনকাম করছে ? কি কাজের বিনিময়ে ইনকাম করছে?
যেটা মনে হচ্ছে তা হল, বিশাল এক ভার্চুয়াল শিল্পকারখানা যেখানে কোটি কোটি মানুষ কোটি কোটি কাজ নিয়ে ছুটে চলেছে বিরামহীন! পৃথিবী যে প্রান্ত আঁধারে ঢেকে যাচ্ছে যাকে বলছি রাত, সেই রাতেই চলছে রাত জেগে অপার প্রান্তের দিনের আলোর মানুষদের কাছ থেকে কাজ পাওয়ার প্রতিযোগীতা বা “বিড” বা কাজ করে জমা দেওয়ার হিসাব নিকাশ!
ভার্চুয়াল জগত ঘুম কেড়েছে ডলার কামানোর জন্য! কোম্পানির প্রচারের মাধ্যম,বিপনন মাধ্যম, ওয়েবে কাজ করার মাধ্যম,আয় ব্যায়ের হিসাব নিকাশ কি করছে না!!! তার মানে আমার প্রথম প্রশ্নের উত্তর এটাই কোম্পানি কাজ দেয় তাদের
-পন্যের/সার্ভিস প্রচারের জন্য
-কোম্পানির প্রচার প্রসারের জন্য
-হিসাব নিকাশের জন্য
-ওয়েব পোর্টাল ডেভেপমেন্ট করার জন্য
-সোশাল মিডিয়া তাদের সাবচক্রাইব বাড়াবার জন্য
দ্বিতীয় বড় প্রশ্ন কারা অনলাইনে কাজ করছে? যা বুঝলাম তা হল অনলাইনে কাজ করছে অধিকাংশ ছাত্ররা ,যারা কিনা পার্টটাইম ইনকাম করছে পড়াশুনার পাশাপাশি, তাছাড়াও অনেক আউট সোর্সিং!ফার্ম লোক নিয়োগ দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে বায়ারদের জন্য।
কি কাজ করছে তারা????
- ডিজাইন,ব্যানার মেকিং, ভিজিটিং কার্ড মেকিং, লোগো মেকিং, পোষ্টার মেকিং…………ইত্যাদি
- ওয়েব ডিজাইন, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান, পোর্টাল মেকিং, সফট ওয়ার ডেভেলপমেন্ট ……ইত্যাদি
- ডাটা এন্ট্রি, এক্সেল এ হিসাব নিকাশ, একাউন্টিং, এডিটিং, আর্টিকেল রাইটিং, এডভার্টাইজিং,ভিডিও আপ্লোডিং ইত্যাদি
কাজের টাকা পাওয়ার হিসাব বেশ চাতুর্য্যপুর্ন! কেন?
কোম্পানি বা বায়ার কাজ দিচ্ছে ওয়েব সাইটে যারা কিনা মিডল্ম্যানের ভুমিকা পালন করে । ওডেক্স,(www.odesk.com) ফ্রিলাঞ্চার এদের মত অনেক সাইট কাজের বিজ্ঞাপন ছাপে বায়ার কাছ থেকে নির্দিষ্ট ডলারের বিনিময়ে আবার যখন ফ্রিলাঞ্চার বিডের মাধ্যমে কাজ নেয় তখন টাকার/ডলারের গ্যারান্টি দেয় “ওডেক্স”এখানেও তারা বিডকৃত কাজের টাকা/ডলার থেকে তাদের হিস্যা কেটে রাখে! কিন্তু টাকা পাওয়ার গ্যারান্টি বড় কথা!!
বাংলাদেশের রেভেন্যু খাতে বড় অংশ আসে গার্মেন্ট থেকে, ২য় খাত বিদেশে কর্মরত শ্রমিক, তৃতীয় রেভেন্যু খাত হিসাবে আউট সোর্সিং! এগিয়ে চলেছে! তাই আমার এই ছোট্ট প্রয়াশ এই খাতে নিজেকে যুক্ত করার!
আদিম জঙ্গল থেকে ভার্চুয়াল জঙ্গল! বাঁচার এক নতুন দিগন্ত! ধন্যবাদ সবাইকে!
-প্রকাশ
No comments:
Post a Comment